আরেকটি মসজিদকে মন্দির ঘোষণা, ভারতে কি এখন হিন্দু শাসন চলছে?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম
ভারতের আরও একটি ঐতিহাসিক মসজিদকে মন্দির ঘোষণা করেছে দেশটির আদালত। মধ্যপ্রদেশের ধার শহরে অবস্থিত ভোজশালা কমপ্লেক্সকে ঘিরে দেওয়া এক রায়ে কামাল মৌলা মসজিদকে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দু মন্দির হিসেবে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এতে বহু বছরের ধর্মীয় সহাবস্থানের অবসান ঘটল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতের রায়ের ফলে ওই স্থানে মুসলিমদের নামাজ আদায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শত শত বছর ধরে চলে আসা ধর্মীয় চর্চা বন্ধ হয়ে গেল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আদালতের এই সিদ্ধান্ত ভারতের ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনাগুলোকে কেন্দ্র করে চলমান আইনি ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় আশঙ্কা করছে, তারা তাদের ঐতিহ্যবাহী উপাসনাস্থলে প্রবেশাধিকার হারাতে যাচ্ছে।
মধ্যপ্রদেশের ধার শহরের কামাল মৌলা মসজিদ বহু বছর ধরে স্থানীয় মুসলমানদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র ছিল। ৭৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ রফিক গত অর্ধশতক ধরে মসজিদটির মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার আগে তার দাদা হাফিজ নজিরউদ্দিনও সেখানে ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এই ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছিল ভারত স্বাধীন হওয়ারও আগে।
তবে বর্তমানে প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে সংরক্ষিত ভোজশালা কমপ্লেক্সের অন্তর্ভুক্ত এই মসজিদে মুসলমানদের প্রবেশ সীমিত হয়ে গেছে।
মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে দায়ের করা এক আবেদনে দাবি করা হয়, মসজিদ নির্মাণের আগে সেখানে একটি হিন্দু মন্দির ছিল। শুনানি শেষে আদালত রায় দেন, মধ্যযুগীয় এই স্থাপনাটি মূলত এক হিন্দু দেবীর উদ্দেশ্যে নির্মিত মন্দির।
রায়ের পর স্থাপনাটিতে গেরুয়া পতাকা টানানো হয়। কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের কর্মীরা সেখানে অস্থায়ী দেবীমূর্তি স্থাপন করেন। এ সময় বিপুলসংখ্যক হিন্দু উপাসককে সেখানে জড়ো হতে দেখা যায়। পুরো এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় পুলিশ।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে ভারতে এ ধরনের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। কট্টর হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলোর দাবি, দেশের বহু মসজিদ অতীতে হিন্দু মন্দিরের জায়গায় নির্মিত হয়েছিল।