আরব দেশগুলোকে দিয়ে ইরানে সমন্বিত হামলা করাতে চেয়েছিল আমিরাত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের পর তেহরানের বিরুদ্ধে সমন্বিত হামলায় আরব দেশগুলোকে একত্রিত করার চেষ্টা করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশ এতে সাড়া না দেওয়ায় এই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।
শুক্রবার (১৫ মে) প্রকাশিত ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান বিভিন্ন আরব নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এর মধ্যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও ছিলেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রস্তাবটি আরব দেশগুলোর সমর্থন না পাওয়ায় আঞ্চলিক কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। একই সঙ্গে ওপেক ও ওপেক প্লাস থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তকেও এই পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে সৌদি আরব সরাসরি ইরানে হামলা চালালেও পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতির জন্য পাকিস্তানের মধ্যস্থতা শুরু হলে রিয়াদ তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে। এরপর তারা সংঘাতের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দেয়।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা না পাওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাত অসন্তুষ্ট ছিল। একই সময়ে কাতারের রাস লাফফান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস প্ল্যান্টে হামলার পর দোহাও ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ বিবেচনা করেছিল, তবে পরে তারা সে অবস্থান থেকে সরে আসে। বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি স্থাপনাগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত এই প্ল্যান্ট বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সমন্বিত আরব সামরিক উদ্যোগ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন অবগত ছিল। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত চেয়েছিল, এই উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হোক।