শিক্ষকের টুপি থেকে ফিলিস্তিনের পতাকা কেটে ফেললো ইসরায়েলি পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১১ এএম

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের ধর্মীয় টুপি কিপ্পা থেকে ফিলিস্তিনি পতাকার অংশ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। গত সোমবার (২০ এপ্রিল) দেশটির মধ্যাঞ্চলের মোদিয়িন শহরে এ ঘটনা ঘটে, যা কয়েকদিন পর গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়।

ভুক্তভোগী শিক্ষক অ্যালেক্স সিনক্লেয়ার, যিনি জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে তার কিপ্পাটি নষ্ট করেছে।

নিজ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি জানান, মোদিয়িনের একটি ক্যাফেতে বসে কাজ করার সময় এক ব্যক্তি তার কাছে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বলেন, তার কিপ্পা নাকি আইনের পরিপন্থী। এ সময় ওই ব্যক্তি পুলিশ ডাকবেন বলেও হুমকি দেন।

সিনক্লেয়ার বলেন, প্রায় দুই দশক ধরে তিনি এমন একটি কিপ্পা ব্যবহার করছেন, যাতে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন—উভয় দেশের পতাকা রয়েছে। তিনি বিষয়টি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করলেও ওই ব্যক্তি তা মানতে চাননি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, কিছুক্ষণের মধ্যেই দুই পুলিশ কর্মকর্তা সেখানে এসে তার কিপ্পা জব্দ করার কথা জানান। পরে তাকে তল্লাশি করে প্রায় ২০ মিনিট একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। ছেড়ে দেওয়ার সময় কিপ্পা ছাড়াই চলে যেতে বলা হয়।

পরবর্তীতে কিপ্পাটি ফেরত চাইলে সেটি তাকে দেওয়া হয়, তবে তখন টুপিটি থেকে ফিলিস্তিনি পতাকার অংশ কেটে ফেলা হয়েছিল। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, তার ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ একটি জিনিস নষ্ট করা হয়েছে। তিনি কিপ্পার আগের ও পরের ছবিও প্রকাশ করেন।

এই ঘটনার পর নিজেকে ‘ভীত, ক্ষুব্ধ ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, এটি নাগরিক স্বাধীনতা হ্রাসের একটি উদাহরণ এবং এ ধরনের ঘটনা সাধারণত কর্তৃত্ববাদী শাসনে দেখা যায়।

ঘটনার বিষয়ে ইসরায়েলি পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তের জন্য অভ্যন্তরীণ বিভাগে অভিযোগ নেওয়া হয়েছে, তবে এ নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা হয়নি।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার ২০২২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ফিলিস্তিনি পতাকা প্রদর্শনের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতেমার বেন-গভির ২০২৩ সালে জনসমাগমস্থল থেকে ফিলিস্তিনি পতাকা সরানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে, দেশটির সংসদ সদস্য গিলাদ কারিভ এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, বিশ্বের অন্য কোথাও কোনো ইহুদির কিপ্পা পুলিশ কেটে দিলে তা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিতো। তিনি ঘটনার বিচার দাবি করেন।

এছাড়া, ইসরায়েলের নাগরিক অধিকার সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর সিভিল রাইটস ইন ইসরায়েলও ঘটনার তদন্ত দাবি করেছে। সংগঠনটির মতে, এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি গুরুতর উদাহরণ এবং এতে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার ও ধর্মীয় মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495