ভারতের মানুষ কেবল সন্তান জন্ম দিতে যুক্তরাষ্ট্রে আসে: ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি রেডিও উপস্থাপক মাইকেল সেভেজ-এর একটি বিতর্কিত চিঠি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ শেয়ার করেছেন। ওই চিঠিতে ভারত, চীনসহ কয়েকটি দেশ সম্পর্কে আপত্তিকর ও বর্ণবাদী মন্তব্য করা হয়।
চিঠিতে সেভেজ দাবি করেন, ভারত ও চীন ‘নরকসম’ দেশ এবং এসব দেশ থেকে মানুষ কেবল যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিতে আসে, যাতে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। তিনি এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব আইনের অপব্যবহার হিসেবে উল্লেখ করে এ প্রথা বন্ধের দাবি জানান। এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড নিউজ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তার বক্তব্যে আরও বলা হয়, ভারত ও চীনের নাগরিকরা গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেন এবং জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই সেই শিশু মার্কিন নাগরিক হয়ে যায়। পরে ওই শিশুর মাধ্যমে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে, এই পোস্ট শেয়ারের একদিন আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে সিএনবিসি-কে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বিশ্বের অন্য কোনো দেশে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেওয়ার নিয়ম নেই। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, তার এই দাবি সঠিক নয়।
বাস্তবে বিশ্বের তিন ডজনেরও বেশি দেশে জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্বের বিধান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী কানাডা ও মেক্সিকোসহ দক্ষিণ আমেরিকার বেশিরভাগ দেশেই এ আইন চালু রয়েছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য ও পোস্ট শেয়ারকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে ভারত ও চীনে। বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প আবারও অভিবাসনবিরোধী অবস্থান জোরদার করছেন এবং এর অংশ হিসেবেই এ ধরনের বিতর্কিত প্রচারণায় যুক্ত হচ্ছেন।
এদিকে, মানবাধিকার কর্মী ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে বিদ্বেষমূলক ও বর্ণবাদী হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তারা মনে করছেন, ভারত ও চীনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি