যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পেতে ‘সমকামী’ হচ্ছেন বহু বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৮ এএম
যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভুয়া সমকামী পরিচয় দিচ্ছেন বহু অভিবাসনপ্রার্থী, যাদের মধ্যে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের নাগরিকদের সংখ্যাই বেশি। এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে বিবিসি-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব দেশে সমকামিতা অবৈধ হওয়ায় জীবননাশের আশঙ্কা দেখিয়ে সহজে আশ্রয় পাওয়ার সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন অনেকে। এই সুযোগকে পুঁজি করে একদল অসাধু আইনজীবী ও পরামর্শক অভিবাসীদের ভুয়া সমকামী পরিচয় তৈরি করে দিচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, যাদের ভিসার মেয়াদ শেষের পথে, তাদের জন্য সাজানো হচ্ছে মিথ্যা গল্প। এমনকি প্রমাণ হিসেবে ভুয়া ছবি, সমর্থনপত্র ও মেডিকেল রিপোর্টও বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এসবের বিনিময়ে আদায় করা হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা।
সংবাদমাধ্যমটি জানায়, একটি আইন সংস্থা ভুয়া আশ্রয় আবেদন করতে প্রায় ৭ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত দাবি করেছে এবং সফলতার নিশ্চয়তাও দিচ্ছে। আবেদনকে বিশ্বাসযোগ্য করতে অনেকেই চিকিৎসকের কাছে গিয়ে মানসিক বিষণ্নতার ভান করে সনদ নিচ্ছেন।
লন্ডনে ‘ওরচেস্টার এলজিবিটি’ নামে একটি সংগঠনের সভায় ১৭৫ জনের বেশি ব্যক্তির উপস্থিতি দেখা যায়। সেখানে অনেকেই স্বীকার করেন, তারা প্রকৃতপক্ষে সমকামী নন; বরং আশ্রয় পাওয়ার কৌশল হিসেবেই এসব কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।
একজন অভিবাসী জানান, তার আইনজীবী তাকে পরামর্শ দিয়েছেন—প্রথমে সমকামী পরিচয়ে আশ্রয় পেলে পরে তার স্ত্রীকেও ‘লেসবিয়ান’ পরিচয়ে আবেদন করতে বলা হবে।
বিবিসি-এর ছদ্মবেশী প্রতিবেদক বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের শিক্ষার্থী পরিচয়ে এই চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ‘তানিসা খান’ নামের এক পরামর্শক জানান, বাস্তবে কেউ সমকামী না হলেও এই পদ্ধতিই সবচেয়ে সহজ এবং অনেকেই এভাবেই আবেদন করছেন।
অন্যদিকে ‘কনাট ল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের পরামর্শক আকিল আব্বাসিও একই ধরনের প্রতারণার কৌশল তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সাক্ষাৎকারে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ভিন্ন গল্প বলতে হবে, যাতে আবেদনটি বিশ্বাসযোগ্য হয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যে এক লাখের বেশি আশ্রয় আবেদন জমা পড়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৩৫ হাজারই ভুয়া বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। যৌন পরিচয়ের ভিত্তিতে করা আবেদনের মধ্যে পাকিস্তানিদের হার সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৪২ শতাংশ।
এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যারা এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে।
রিফিউজি কাউন্সিলের পরিচালক ইমরান হোসেন বলেন, অসাধু পরামর্শকরা অসহায় মানুষদের ব্যবহার করে ব্যবসা করছে, যা প্রকৃত শরণার্থীদের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এরই মধ্যে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আশ্রয় দেওয়া হবে অস্থায়ীভাবে এবং প্রতি ৩০ মাস অন্তর তাদের পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। তবে কঠোর নজরদারির মধ্যেও জালিয়াত চক্রের কার্যক্রম থামেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।