প্রেমের টানে চট্টগ্রামে এসে প্রতারণার শিকার ভারতীয় তরুণী, আশ্রয় হলো সেফ হোমে
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২০ এএম
প্রেমের টানে ভারত থেকে চট্টগ্রামে এসে একের পর এক প্রতারণার শিকার হয়েছেন মহিমা মোল্লা নামের এক তরুণী। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের একটি সরকারি সেফ হোমে অবস্থান করছেন এবং নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
জানা যায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা থানার বাসিন্দা মহিমা মোল্লার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয় চট্টগ্রামের চান্দগাঁও এলাকার বাসিন্দা রহিমের। দীর্ঘদিন ভিডিও কল ও চ্যাটের মাধ্যমে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে তা প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। প্রায় দুই বছর সম্পর্কের পর পরিবারকে না জানিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে এসে রহিমকে বিয়ে করেন মহিমা।
বিয়ের পর প্রায় এক বছর সংসার করার পর তিনি জানতে পারেন, রহিম আগে থেকেই বিবাহিত এবং তার স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। এতে প্রতারিত হয়ে স্বামীর সংসার ছেড়ে চলে যান মহিমা এবং দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
তবে বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা না থাকায় দেশে ফিরতে না পেরে তিনি চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানায় আত্মসমর্পণ করেন। পরে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয় এবং আদালত তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। কারাভোগ শেষে এক আত্মীয় পরিচয় দেওয়া ব্যক্তির জিম্মায় মুক্তি পেলেও ওই ব্যক্তি তাকে দেশে পাঠানোর কথা বলে শারীরিক নির্যাতন ও আপত্তিকর আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে এক আইনজীবীর সহায়তায় মহিমা বিষয়টি আদালতে তুলে ধরেন।
চট্টগ্রামের মানবাধিকার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান জানান, আদালত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মহিমাকে ভারতে ফেরত পাঠানো না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রামের ফরহাদাবাদের সরকারি সেফ হোমে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
মহিমা মোল্লা বলেন, বিয়ের আগে রহিম তার আগের বিয়ের বিষয়টি গোপন করেছিলেন। বিষয়টি জানলে তিনি কখনোই দেশ ছেড়ে আসতেন না। এখন তার একমাত্র ইচ্ছা বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যাওয়া।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, মহিমা ২০২৩ সালে রহিমকে বিয়ে করেন এবং ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। সাজা ভোগ শেষে বর্তমানে তিনি সেফ হোমে রয়েছেন এবং তাকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।