নওগাঁয় একই পরিবারের ৪ জন খুন, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০৯ পিএম
নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। প্রাথমিকভাবে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচজনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান।
পুলিশি হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন- নিহত হাবিবুর রহমানের বাবা নমির উদ্দিন (৭০), তার দুই বোন ডালিমা ও হালিমা, ভাগনে সবুজ রানা (২৫) এবং ভগ্নিপতি শহিদুল।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পরপরই ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। একাধিক তদন্ত সংস্থা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসব আলামত সংগ্রহ করেছে। সেগুলোর বিশ্লেষণ এবং আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জমিজমা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই চূড়ান্তভাবে কিছু নিশ্চিত করছে না পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা সহায়তায় প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে বলেও জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
মঙ্গলবার বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। বুধবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো পরিবারের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, সোমবার গভীর রাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- হাবিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং তিন বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পরিবারের সদস্যদের গলাকেটে হত্যা করে। ফজরের নামাজের পর দরজা খোলা দেখতে পেয়ে প্রতিবেশীরা ভেতরে গিয়ে মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় পারিবারিকভাবে দীর্ঘদিনের জমিজমা বিরোধের কথা উঠে এসেছে। নিহত হাবিবুর রহমানের বোন শিরিনার সঙ্গে বিরোধ চলছিল এবং এর আগে হত্যার হুমকির অভিযোগও ছিল বলে জানা গেছে।