সংসদীয় কমিটির সুপারিশে বিতর্ক: ক্ষমতা বাড়ানোর অধ্যাদেশ আইনে, জবাবদিহিরগুলো বাদ

মফস্বল সংবাদ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। সংসদীয় বিশেষ কমিটি সরকারের ক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো আইনে রূপান্তরের সুপারিশ করলেও, জবাবদিহি বাড়ানোর বেশ কিছু অধ্যাদেশ বাতিল বা আপাতত স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিন গত ১৩ মার্চ মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হয়। এসব অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ১৪ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়, যেখানে ১১ জন বিএনপি এবং ৩ জন জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি রয়েছেন। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এসব অধ্যাদেশের বিষয়ে ৩০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯৮টি অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তরের জন্য বিল আকারে সংসদে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে উপস্থাপনের কথা বলা হয়েছে। তবে ২০টি অধ্যাদেশ আপাতত আইনে রূপান্তর করা হচ্ছে না।

এদিকে, বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এ সুপারিশে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত দিয়েছে। তবে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সরকারি দল বিএনপি সহজেই এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ক্ষমতা বৃদ্ধির অধ্যাদেশে জোর: যেসব অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তরের সুপারিশ করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে-বিশেষ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ ও প্রশাসক নিয়োগ, আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত সরকারি কর্মচারীদের দ্রুত বরখাস্ত এবং ওয়াসার কর্মচারীদের কারণ দর্শানো ছাড়াই অপসারণের ক্ষমতা সরকারের হাতে রাখা।

তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় মতামতে বলেছে, এ ধরনের ক্ষমতা বহাল থাকলে তা যথেচ্ছ ব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবুও এসব অধ্যাদেশ সংশোধন ছাড়াই আইনে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিচার বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর প্রভাব বহাল: অন্তর্বর্তী সরকার বিচারপতি নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর প্রভাব কমাতে যে অধ্যাদেশ জারি করেছিল, তা আইনে রূপান্তর করা হচ্ছে না। ফলে উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা বহাল থাকছে।

একইভাবে নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ প্রধান বিচারপতির অধীনে দেওয়ার উদ্যোগও বাতিল হচ্ছে। এতে বিচার বিভাগে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

জবাবদিহির গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাদ: গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) স্বাধীনতা বাড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো আইনে রূপান্তর করা হচ্ছে না।

বিশেষ করে গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ নিয়ে সরকারের আপত্তির কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এ আইন নতুন করে সংশোধন প্রয়োজন। অন্যদিকে বিরোধী দল বলছে, এতে গুমের সংস্কৃতি ফেরার আশঙ্কা রয়েছে।

মানবাধিকার কমিশনকে আরও স্বাধীন ও শক্তিশালী করার বিধানও বাতিলের তালিকায় রাখা হয়েছে। নাগরিক সমাজ এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

রাজনৈতিক বিরোধ ও ভিন্নমত:মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল অধ্যাদেশ নিয়েও মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। এতে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে কিছু রাজনৈতিক দলের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকায় জামায়াতে ইসলামী ভিন্নমত জানিয়েছে।

সব মিলিয়ে, বিশেষ কমিটির সুপারিশে সরকারের ক্ষমতা বাড়ানোর অধ্যাদেশগুলো অগ্রাধিকার পেলেও জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলো পিছিয়ে পড়েছে। ফলে বিষয়টি রাজনৈতিক ও নীতিগতভাবে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495