যুবদল নেতার চাঁদাবাজির শিকার মানবিক চিকিৎসক ডা. কামরুল ইসলাম

মফস্বল সংবাদ ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৬ এএম

ছবি: সংগৃহীত

বিনা পারিশ্রমিকে দুই হাজারের বেশি কিডনি প্রতিস্থাপন করে মানবসেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা প্রখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম এবার চাঁদাবাজ চক্রের হুমকির মুখে পড়েছেন। রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় তার প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালে একদল চাঁদাবাজ দীর্ঘদিন ধরে ত্রাস সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শল্যচিকিৎসক ও ইউরোলজিস্ট ডা. কামরুল ইসলাম ঢাকার শ্যামলীতে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি’ (সিকেডি) হাসপাতাল। প্রায় ১৯ বছর ধরে বিনা পারিশ্রমিকে কিডনি প্রতিস্থাপন করে আসা এই চিকিৎসকের অস্ত্রোপচারের সাফল্যের হার ৯৫ শতাংশের বেশি। মানবকল্যাণে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০২২ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন।

অভিযোগ রয়েছে, শেরেবাংলা নগর থানা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মঈন উদ্দিন মঈনের নেতৃত্বে একটি চক্র গত প্রায় এক বছর ধরে হাসপাতালটিতে চাপ সৃষ্টি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। ডা. কামরুল ইসলামের ভাষ্য, গত বছরের জুলাই-আগস্টের পর থেকেই বিভিন্নভাবে চাঁদা দাবি শুরু হয়। কখনো রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর হুমকি, কখনো সরাসরি ভয়ভীতি—এভাবে পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে চক্রটি।

এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছে। এদিকে একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, এক ব্যক্তি হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে কর্মরত এক স্টাফকে ধমক দিচ্ছেন এবং নিজেকে যুবদল নেতা পরিচয় দিচ্ছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি মঈন উদ্দিন মঈন। তার সঙ্গে জড়িত আরেক সদস্য মাঈনুদ্দিনের বিরুদ্ধেও খুন ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

ডা. কামরুল ইসলাম দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি একাধিকবার বিএনপির ঊর্ধ্বতন নেতাদের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন, তবে এখনো কার্যকর কোনো সমাধান পাননি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাসপাতালের খাবার সরবরাহ সংক্রান্ত টেন্ডার নিয়ে বিরোধ থেকেই মূলত এ পরিস্থিতির সৃষ্টি। অভিযোগ আছে, মঈন উদ্দিন মঈনকে টেন্ডার না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে চক্রটি এবং এরপর থেকেই চাঁদা দাবি ও চাপ প্রয়োগ শুরু করে।

এ বিষয়ে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, অভিযোগের তদন্ত চলছে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও অভিযুক্তদের নিয়ে শুক্রবার থানায় একটি সমঝোতা বৈঠক হয়েছে। তবে পুলিশের কাছে সরাসরি চাঁদাবাজির অভিযোগ আসেনি, বরং একজন স্টাফের সঙ্গে বিরোধ থেকেই কিছু সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495