ঢামেকে চিকিৎসক ও ঢাবি শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, জরুরি বিভাগে চিকিৎসা বন্ধ
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০১ পিএম
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বুধবার সন্ধ্যায় উত্তেজনাপূর্ণ সংঘর্ষ ঘটেছে। এ ঘটনায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, জরুরি সেবা নিতে আসা রোগীদের বাইরে বের করে দেওয়া হচ্ছে, যার কারণে অনেক রোগী হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ভোগান্তিতে পড়েছেন।
জরুরি বিভাগের ভেতরে চিকিৎসকরা গেট বন্ধ করে অবস্থান করছেন। বাইরে অবস্থানরত ঢাবি শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে জরুরি বিভাগের প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় নতুন রোগীরা ভেতরে প্রবেশ করতে পারছে না।
চিকিৎসা নিতে আসা জেসমিন আক্তার বলেন, কয়েকদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য টিকিট সংগ্রহের পরই বিশৃঙ্খলা শুরু হয় এবং তাকে জোরপূর্বক বাইরে বের করা হয়।
ঢাবি শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ ইমন অভিযোগ করেন, তার হলের ছোট ভাই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তিনটি ওষুধ লিখে দেন। ওষুধ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করলে চিকিৎসক তার ওপর আক্রমণ করেন। পরে আরও কয়েকজন এসে মারামারি চালায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগীর স্বজন বলেন, “আমার ভাই অপারেশন থিয়েটারে আছে। আমি ভেতরে যেতে চাই, কিন্তু আনসার সদস্যরা প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছেন না।”
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসার পর। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে ‘নেলবান’ নামের ইনজেকশন বাইরে থেকে আনার পরামর্শ দেন। ইনজেকশনটি না পাওয়া গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে চিকিৎসকের কথা কাটাকাটি শুরু হয় এবং পরিস্থিতি হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে জরুরি বিভাগের প্রধান প্রবেশপথ বন্ধ করে চিকিৎসা কার্যক্রম স্থগিত করেন।
ঢামেকের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোস্তাক আহমেদ জানান, প্রেসক্রাইব করা ইনজেকশনটি প্যাসিডিন জাতীয়, যা দোকানগুলোতে সহজলভ্য নয়। চিকিৎসকদের নিরাপত্তার কারণে জরুরি বিভাগের প্রধান গেট বন্ধ রাখা হয়েছে।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক আব্দুর রহমান বলেন, “চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের মারামারি পর রোগীরা হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারছে না। দুই পাশে উত্তেজনা বিরাজ করছে, জরুরি সেবা বন্ধ রয়েছে।”
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, বিকেল সাড়ে পাঁচটার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।