আজ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম
আনন্দ-বেদনা, প্রেম-বিরহ কিংবা প্রতিবাদ—বাঙালির জীবনের প্রতিটি অনুভূতিতে জড়িয়ে আছেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। দেড় শতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও চেতনায় তিনি আজও সমান প্রাসঙ্গিক ও অমলিন।
আজ ২৫ বৈশাখ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী। দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাণী দিয়েছেন। প্রতি বছর এ দিনটি ঘিরে রবীন্দ্রপ্রেমী বাঙালির মাঝে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। কারণ, এটি শুধু একজন কবির জন্মদিন নয়; বাঙালির আত্মপরিচয়, মনন ও সংস্কৃতিরও একটি বিশেষ দিন।
বাংলা সাহিত্য, সংগীত, চিত্রকলা ও দর্শনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের অসামান্য অবদান রয়েছে। ১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য নোবেল পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে অনন্য মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেন।
কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, শিশুতোষ সাহিত্য ও চিত্রকলায় তাঁর সৃষ্টিশীলতার দীপ্তি আজও মানুষকে মুগ্ধ করে। মানবতা, দেশপ্রেম, সত্য ও ন্যায়ের বার্তা তাঁর সৃষ্টিকর্মে বারবার উঠে এসেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধেও তাঁর গান ছিল বাঙালির অনুপ্রেরণার অন্যতম শক্তি।
সাহিত্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে শিক্ষা, কৃষি, গ্রামীণ অর্থনীতি ও সমাজকল্যাণেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। শান্তিনিকেতনে ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা এবং শাহজাদপুর ও পতিসরে কৃষকদের উন্নয়নে কাজ তাঁর বহুমাত্রিক চিন্তারই প্রতিফলন।
এ বছর রবীন্দ্রজয়ন্তীর প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ’। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কুষ্টিয়ার শিলাইদহসহ কবির স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন জেলায় নেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও পৃথক আয়োজন করেছে।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে কুষ্টিয়ার শিলাইদহে তিন দিনব্যাপী জাতীয় পর্যায়ের মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এছাড়া নওগাঁর পতিসর ও সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরেও থাকছে বর্ণাঢ্য আয়োজন।
পতিসরের অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম উপস্থিত থাকবেন। অন্যদিকে শাহজাদপুরের অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। খুলনার দক্ষিণ ডিহির অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
এছাড়া শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে আজ থেকে ১১ মে পর্যন্ত চার দিনের অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। বাংলা একাডেমিতেও ১১ মে অনুষ্ঠিত হবে সেমিনার, রবীন্দ্র পুরস্কার প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট দুই দিনব্যাপী রবীন্দ্র উৎসবের আয়োজন করেছে। আলোচনা, নৃত্য, সংগীত ও আবৃত্তির মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হবে বিশ্বকবিকে। দেশব্যাপী বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের উদ্যোগেও উদযাপিত হবে রবীন্দ্রজয়ন্তী।