মার্কিন অবরোধকে ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’ দেখিয়ে হরমুজ পার হলো ইরানি সুপারট্যাঙ্কার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও কঠোর সতর্কতাকে কার্যত ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’ দেখিয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে একটি ইরানি সুপারট্যাঙ্কার। এতে করে উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
ইসলামাবাদে টানা ৩৮ দিনের সংঘাত শেষে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও তা শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা ছাড়াই ভেস্তে যায়। এই ব্যর্থতার পরপরই হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধ ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে তাঁর কঠোর হুঁশিয়ারিকে উপেক্ষা করেই বুধবার একটি ইরানি সুপারট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা এই বিশাল জাহাজটি প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহনে সক্ষম। অবরোধ ঘোষণার পর এটিই প্রথম বড় ইরানি জাহাজ, যা মার্কিন নৌবাহিনীর সতর্কতা উপেক্ষা করে গন্তব্যের দিকে অগ্রসর হয়। তবে জাহাজটি তেলবোঝাই ছিল নাকি খালি অবস্থায় চলছিল—এ বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর সোমবার ওয়াশিংটন সময় রাত ৮টা থেকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের উপসাগরীয় বন্দরগুলো কার্যত অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবরুদ্ধ অঞ্চলের কাছাকাছি কোনো ইরানি জাহাজ গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হবে।
এছাড়া ইরানকে অর্থ বা টোল প্রদানকারী যেকোনো জাহাজ আন্তর্জাতিক জলসীমায় শনাক্ত করে আটক করার নির্দেশও দেন তিনি। মূলত ইরানের তেল রপ্তানি ও অর্থনীতির প্রধান প্রবাহ বন্ধ করাই ছিল এই পদক্ষেপের লক্ষ্য।
এদিকে কড়া নজরদারির মধ্যেও শুধু ইরান নয়, চীনের একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারও সফলভাবে হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে বলে জানা গেছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত একটি ট্যাঙ্কার প্রথমবারের মতো উপসাগর থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে।
এছাড়া আরও একটি নিষিদ্ধ জাহাজ বর্তমানে হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।