সিরাজগঞ্জে চিকিৎসকের অবহেলায় সন্তান মৃত্যু
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৩ এএম
সিরাজগঞ্জে চিকিৎসকের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে গর্ভের সন্তান মারা যাওয়ার অভিযোগ করেছেন সন্তান হারানো মা শর্মি ইসলাম। এ ঘটনায় সিরাজগঞ্জের চিকিৎসক ডা. রুখসানা ইয়াসমিন তুলি ও স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতাল (আভিসিনা হাসপাতাল) কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমীনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মা শর্মি ইসলাম।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কাজ শুরু করেছে সিভিল সার্জন কার্যালয়।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শর্মি ইসলাম সিরাজগঞ্জ শহরের গোশালা এলাকার বাসিন্দা। গর্ভাবস্থার শুরু থেকে তিনি সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল রোডে অবস্থিত দি থাইরো কেয়ার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারের চিকিৎসক ডা. রুখসানা ইয়াসমিন তুলির (গাইনী ও প্রসূতিবিদ্যা) তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
শর্মি ইসলাম অভিযোগ করেন, গত ২৪ আগস্ট ডা. তুলি তাকে ৫ সেপ্টেম্বর আল্ট্রাসনোগ্রাম করিয়ে সন্ধ্যার পর চেম্বারে দেখাতে বলেন। একই সঙ্গে ৫ সেপ্টেম্বরকে সম্ভাব্য প্রসবের তারিখ হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রসব ব্যথা উঠলে তাকে আভিসিনা হসপিটালে নিয়ে গিয়ে ফোন করার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। এ সময় যোগাযোগের জন্য নিজের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরও দেন।
তবে ৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে শর্মির তীব্র প্রসব ব্যথা শুরু হলে স্বজনরা তাকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আভিসিনা হসপিটালে নিয়ে যান। সেখানে যাওয়ার পর রাত ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে সকাল পর্যন্ত ডা. তুলির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন ধরেননি।
পরে হাসপাতালের মাধ্যমে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে সকাল আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে ডা. তুলির সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হলেও তিনি হাসপাতালে এসে রোগীকে দেখেননি এবং বারবার অনুরোধের পরও জরুরি কোনো ব্যবস্থা নেননি।
আজ বুধবার সকালে নবাগত সন্তান হারানো মা শর্মি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, আভিসিনা হসপিটালে নেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ডা. রুখসানা ইয়াসমিন তুলির সঙ্গে যোগাযোগে ব্যর্থ হওয়ার পরও বিকল্প কোনো চিকিৎসকের মাধ্যমে জরুরি চিকিৎসা কিংবা অন্য হাসপাতালে রেফারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্বজনরা বারবার অনুরোধ করলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি।
একপর্যায়ে অসহ্য প্রসব যন্ত্রণা ও রক্তপাত শুরু হলে মা ও গর্ভের শিশুর জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। পরে আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে শর্মি আভিসিনা হসপিটাল থেকে বের হয়ে এনায়েতপুরের খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হন এবং সেখানে তাৎক্ষণিক চিকিৎসায় তার জীবন রক্ষা পেলেও গর্ভের সন্তানকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
সন্তান হারানো মা শর্মি ইসলাম আরো বলেন, চিকিৎসকের দায়িত্বে অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। আমি কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ বা ব্যক্তিগতভাবে হয়রানি করছি না। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিকিৎসকের দায়িত্বে অবহেলা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত, প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
অভিযোগের বিষয়ে ডা. রুখসানা ইয়াসমিন তুলি বলেন, মিডিয়াতে আমি কোন বক্তব্য দেবো না। যেহেতু আমার বিরুদ্ধে সিভিল সার্জন বরাবর অভিযোগ দিয়েছে তাই আমি তদন্ত কমিটির কাছে আমার বক্তব্য পেশ করবো। আপনারা সেখানে থেকে জেনে নিতে পারেন।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমীন বলেন, অভিযোগ এর বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে রিপোর্ট দেবো।