চেয়ারম্যান হত্যা মামলায় ১০ জনকে সিআইডিতে তলব
মো. সাব্বির মামুন
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম
কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এই মামলায় ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাসহ ১০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডি।
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬০ ধারা অনুযায়ী অভিযুক্তদের এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে 'কারেন্ট আনোয়ার' নামে পরিচিত ইউপি চেয়ারম্যান চলতি বছরের ২৪শে মার্চ মারা যান। ওই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছিল যে, তিনি ভোর ৬টার দিকে ঢাকায় স্ট্রোক করে ইন্তেকাল করেছেন। তবে, এই ঘটনাকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে মেনে নেয়নি তাঁর পরিবার। মৃত্যুর প্রায় সাত মাস পর নিহতের ভাই মো. মিষ্টার আলী বাদী হয়ে আদালতে একটি সিআর মামলা দায়ের করেন।
সিআইডির নথিপত্র অনুযায়ী, মোহাম্মদপুর আমলী আদালতে দায়ের করা মামলাটি গত ১০ই আগস্ট দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ (হত্যার উদ্দেশ্যে সংঘবদ্ধ অপরাধ) ধারায় নথিভুক্ত হয়। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডি ঢাকা মেট্রো-পশ্চিম বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক সিকদার মহিদুল আলম স্বাক্ষরিত তলব আদেশে বলা হয়েছে, মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে বিবাদীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (১লা অক্টোবর) সকাল ১১টায় ঢাকার মালিবাগে সিআইডির ডিটেকটিভ ট্রেনিং স্কুলে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য-প্রমাণসহ আসামিদের হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সিআইডির নোটিশ অনুযায়ী, মামলায় অভিযুক্ত ১০ জনের সবার বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর উপজেলার ঢুষমারা থানা এলাকায়। স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত তথ্যানুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যানসহ বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি-এর স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা রয়েছেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে যাদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে জানা গেছে, তারা হলেন:
মো. শাহ আলম ভারপ্রাপ্ত মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান (এনসিপি)।
শহিদ (শহিদুল) ও মিজান যুবদল নেতা, আরিফুল কবির তালুকদার রানা , নাফিউল আজম জুয়েল ছাত্রদল নেতা, মো. ইসমাইল হোসেন বাবুল স্থানীয় ইউপি মেম্বার, ওয়ার্ড বিএনপি নেতা শামীম ও যুবলীগ নেতা দুলাল।
এছাড়াও নোটিশপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন, মো. বদিউজ্জামান বদি, মাজহারুল, সেলিম।রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বিরোধ
নিহত আনোয়ার হোসেনের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এলাকায় নানামুখী আলোচনা রয়েছে।
জানা যায়, তিনি জেপি'র (জাতীয় পার্টি) 'সাইকেল' প্রতীকে নির্বাচন করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং ইতিপূর্বে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথেও তাঁর সম্পৃক্ততার কথা শোনা যায়। তবে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের সাথে তাঁর স্পষ্ট দ্বন্দ্ব ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে দেখা যায়, তাঁর মৃত্যুর আগে স্থানীয় রাজনীতিতে প্রধান চার দল (জামায়াত, বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি) ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। এমনকি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তাঁকে বয়কট করারও আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক করেছিলেন।
পরিবারের দাবি অনুযায়ী এটি যদি হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকে, তবে এর পেছনে স্থানীয় এই রাজনৈতিক বিরোধ কোনো ভূমিকা রেখেছে কি না-তা সিআইডির তদন্তে উঠে আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
প্রাথমিকভাবে বিষয়টিকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে ধরে নেওয়া হলেও, আইনি পদক্ষেপ ও সিআইডির নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে এই ঘটনার প্রকৃত কারণ খুব শিগগিরই পরিষ্কার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।