চাঁদাবাজ ধরা তো দূরের কথা, তাদের পশমও ছিঁড়তে পারবেন না: রনি
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
রাজনীতিবিদ ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি বলেছেন, চাঁদাবাজদের ধরা তো দূরের কথা, তাদের সামান্য ক্ষতিও করা সম্ভব হবে না।
সম্প্রতি থ্রি তন্ত্র ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গোলাম মাওলা রনি বলেন, সরকার চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলছে। ইতোমধ্যে সারা দেশে সাড়ে চার হাজার শীর্ষ চাঁদাবাজকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও প্রচার রয়েছে। তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের কথা বলা হচ্ছে এবং গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে—এ ধরনের তথ্য পুলিশ ও র্যাবের পক্ষ থেকেও জানানো হচ্ছে। তবে বাস্তবে এসবের কার্যকারিতা নেই বলেই মনে করেন তিনি।
তার ভাষায়, লোক দেখানোভাবে হয়তো সাড়ে চার হাজারের মধ্যে কিছুসংখ্যককে গ্রেপ্তার করা হবে, কিন্তু তারা আবারও বের হয়ে এসে আগের কার্যক্রম চালাবে।
তিনি আরও বলেন, কুখ্যাত সন্ত্রাসীদের জেলখানায় রাখলেও বা নজরদারিতে রাখলেও তাদের নেটওয়ার্ক বন্ধ হয় না। চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে, যারা দেশের বাইরে বা জেলে থাকলেও নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে তিনি ডাকার শফিক, টোকাই সাগর, মুরগি মিলন, কালা জাহাঙ্গীর, সুইডেন আসলাম, সুব্রত বাইন ও জিসানের নাম উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এদের অনুপস্থিতিতেও দেশে অপরাধমূলক নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল।
গোলাম মাওলা রনি আরও দাবি করেন, আশির ও নব্বইয়ের দশকে চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের সঙ্গে রাজনীতির সরাসরি সম্পর্ক না থাকলেও ২০০১ সালের পর থেকে রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে আন্ডারওয়ার্ল্ডের যোগসূত্র তৈরি হয়। এরপর বিভিন্ন সময় গ্যাং কালচারের বিস্তার ঘটে এবং তারা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা কেন্দ্র করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
তিনি বলেন, ড. ইউনূস জামানায় ক্ষমতার পরিবর্তনের পর পুরোনো সিন্ডিকেটের পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক ও অপরাধচক্র যুক্ত হয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এতে চাঁদাবাজি কার্যত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে।