যুবদল ও ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় সরকারি বরাদ্দ পাওয়া জমিতে ঘর নির্মাণ করতে গিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলেছেন বনওয়ারীনগর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য মোছা. বিজলী খাতুন। স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র তার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেছে এবং ঘর নির্মাণে বাধা দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) ভুক্তভোগী বিজলী খাতুন, যিনি নিজেকে তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন, ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
অভিযোগে জানা যায়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি উপজেলা পরিষদের এক সাধারণ সভায় বনওয়ারীনগর বাজারের একটি দোকান সংলগ্ন এলাকায় পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় তাকে আধা শতাংশ জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিয়ম মেনেই তাকে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়।
বরাদ্দকৃত জমিতে থাকা দুটি ছোট বন করই গাছ অপসারণ করে ঘর নির্মাণের প্রস্তুতি নিতেই বাধার মুখে পড়েন তিনি। বিজলী খাতুনের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালী আমিন উদ্দিন সাবেরী (উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক রাজিবুল হক পান্তু এবং বনওয়ারীনগর বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক টিপুসহ একদল ব্যক্তি তার কাজে সরাসরি বাধা দেন।
তার অভিযোগ, অভিযুক্তরা তার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করে। এমনকি তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন।
বিজলী খাতুন বলেন, তিনি একজন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হয়েও জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। কিন্তু নিজ এলাকাতেই তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সরকারি জমি পাওয়ার পরও তাকে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না এবং উল্টো চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। তিনি দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বিচারের আশায় তিনি তার অভিযোগের অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং ফরিদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছেও পাঠিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ইমামা বানিন জানান, অভিযোগটি পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সরকারি জমি বরাদ্দে কোনো ধরনের বাধা বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন উঠেছে, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যদি সরকারি বরাদ্দের জমি নিয়ে এমন বাধার মুখে পড়েন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।