প্লট দুর্নীতির মামলায় জয়-পুতুলের ৫ বছরের কারাদণ্ড
মফস্বল সংবাদ ডেস্কক
প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৩৮ পিএম
ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঢাকার পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি জমি বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ অন্যান্য আসামির বিরুদ্ধে দুদক দায়ের করা তিনটি পৃথক মামলার রায় ঘোষণা করেছে আদালত।
দ্বিতীয় মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয়ের পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তৃতীয় মামলায় সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি মামলায় শেখ হাসিনাকে সাত বছর করে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য আসামিদেরও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রায় ঘোষণা করেন। তিনটি মামলায় আসামির সংখ্যা ৪৭ হলেও ব্যক্তি হিসেবে সংখ্যা ২৩। প্রথম মামলায় ১২ জন, দ্বিতীয় মামলায় ১৭ জন, এবং তৃতীয় মামলায় ১৮ জনের নাম রয়েছে।
আদালত রাজউকের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকারকে খালাস দিয়েছেন। সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে প্রতিটি মামলায় এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। খুরশীদ আলম একমাত্র আত্মসমর্পণকারী আসামি হিসেবে কারাগারে ছিলেন।
দুদক এই মামলাগুলো চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দায়ের করে। আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয় মার্চের ১০ তারিখে। এরপর ৩১ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার প্রধান আসামি শেখ হাসিনা ও পরিবারের সদস্যরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না এবং পলাতক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।
সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্যে দুদকের ৭৯ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা একমাত্র আত্মসমর্পণকারী খুরশীদ আলমকে শুধুমাত্র হুকুম পালনকারী হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করেন। মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয় ১৭ থেকে ২০ নভেম্বরের মধ্যে।
অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, শেখ হাসিনা ও তার পরিবার ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নং রাস্তার তিনটি ১০ কাঠার মোট ৩০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নিয়েছিলেন, যেখানে অন্যান্য আসামিদেরকেও প্রভাবিত করা হয়েছিল।