নতুন নিয়মে চরম বিপাকে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু খামারিরা, আত্মহত্যার হুমকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে গবাদি পশুর হাট ও জবাই প্রক্রিয়ায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসন। নতুন এই সিদ্ধান্তে রাজ্যজুড়ে খামারি ও পশু ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের খামারিরা। তাদের অভিযোগ, সারা বছর ঋণ করে গরু পালন করলেও এবার কুরবানির মৌসুমে পশু বিক্রির সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে ঋণের চাপ বাড়ছে এবং অনেকেই চরম হতাশায় আত্মহত্যার হুমকি দিচ্ছেন।

নতুন নিয়মের কারণে রাজ্যের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পশুর হাটে ক্রেতার উপস্থিতি কমে গেছে। আইনি জটিলতা ও প্রশাসনিক হয়রানির আশঙ্কায় অনেক ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতা হাট এড়িয়ে চলছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি ও পশু চিকিৎসকের যৌথ অনুমোদন ছাড়া কোনো গরু বা মহিষ জবাই করা যাবে না। পাশাপাশি পশুর বয়স ও শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গর্ভবতী পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং খোলা স্থানে জবাইও বন্ধ রাখা হয়েছে। শুধুমাত্র অনুমোদিত কসাইখানায় পশু জবাই করা যাবে। এসব নিয়ম অমান্য করলে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

এদিকে নতুন এই সিদ্ধান্ত ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, মাঠপর্যায়ে পশুর সঠিক বয়স নির্ধারণ কীভাবে সম্ভব হবে।

খামারিদের আশঙ্কা, গ্রামীণ এলাকার অধিকাংশ পশুপালকের কাছে বয়স প্রমাণের নির্ভরযোগ্য কাগজপত্র না থাকায় প্রশাসনিক হয়রানি ও দুর্নীতির ঝুঁকি আরও বাড়বে।

মুর্শিদাবাদসহ সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জেলার পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, আগের তুলনায় ক্রেতা ও ব্যবসায়ীর সংখ্যা অনেক কম। পুলিশের নজরদারি ও আইনি জটিলতার ভয়ে অনেকে হাটে আসছেন না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

খামারিদের দাবি, দ্রুত এই সংকটের সমাধান না হলে বড় ধরনের মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

প্রধান সম্পাদক: মো. নূরুল হক

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: আজরত পাড়া, মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

ইমেইল: mofossolsangbad@gmail.com

মোবাইল: 01626605495