তরমুজ খাওয়ার পর একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু, তদন্তে বিরিয়ে এলো আসল রহস্য
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম
ভারতের মুম্বাইয়ে তরমুজ খাওয়ার পর একই পরিবারের চার সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ফরেনসিক তদন্তে নিহতদের শরীর ও খাওয়া তরমুজের নমুনায় ইঁদুর মারার বিষাক্ত রাসায়নিক ‘জিঙ্ক ফসফাইট’-এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, খাদ্যে বিষক্রিয়া নয়, বিষ প্রয়োগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ৪৫ বছর বয়সী আবদুল্লাহ দোকাদিয়া ও তার স্ত্রী ৩৫ বছর বয়সী নাসরিন নিজেদের বাসায় আত্মীয়দের জন্য নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন। পরিবারের দুই মেয়ে—১৩ বছর বয়সী জয়নাব ও ১৬ বছর বয়সী আয়েশাও সেখানে উপস্থিত ছিল। অতিথিদের জন্য খাসির পোলাও রান্না করা হয়েছিল।
আত্মীয়রা চলে যাওয়ার পর রাত ১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তরমুজ খান। এরপর ভোরের দিকে তাদের সবার তীব্র বমি ও ডায়রিয়া শুরু হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিবারের চার সদস্য মারা যান।
ফরেনসিক প্রতিবেদনে চিকিৎসকরা নিহতদের শরীরে ‘জিঙ্ক ফসফাইট’-এর উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন। এটি সাধারণত ইঁদুর মারার বিষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। একই সঙ্গে পরিবারটির খাওয়া তরমুজের নমুনাতেও একই রাসায়নিক পাওয়া গেছে।
তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, বিষাক্ত রাসায়নিকটি দুর্ঘটনাবশত তরমুজে মিশেছিল নাকি পরিকল্পিতভাবে ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রবেশ করানো হয়েছিল।
প্রাথমিক পরীক্ষায় নিহতদের মস্তিষ্ক, হৃদযন্ত্র ও অন্ত্রসহ কয়েকটি অঙ্গ সবুজাভ হয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে, যা বিষক্রিয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে আবদুল্লাহ দোকাদিয়ার শরীরে ‘মরফিন’-এর উপস্থিতিও শনাক্ত হয়েছে। এটি শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কীভাবে তার শরীরে এই উপাদান এলো, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
ঘটনায় পুলিশ অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে। ওই রাতের নৈশভোজে অংশ নেওয়া অতিথিদের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অতিথিরা কেবল পোলাও খেয়েছিলেন, তারা কেউ তরমুজ খাননি এবং সবাই সুস্থ আছেন।